আমরা প্রতিদিন কোন না কোন ওয়েবসাইটে ভিজিট করে থাকি আমাদের নিত্য নতুন প্রয়োজনে। একেকটা ওয়েবসাইটের কাজ একেক রকম হয়ে থাকে। আপনি যদি একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে চান তাহলে অবশ্যই এই পোস্টটি মনযোগ দিয়ে সম্পূর্ণ পড়বেন। এই পোস্টে আমরা আলোচনা করব একটি ওয়েবসাইট তৈরির পূর্বে আমাদের কী কী করা উচিত। তবে তার আগে আমাদের জেনে নেওয়া উচিত ওয়েবসাইট কী!! এজন্য এই পোস্টটি পডুন - ওয়েবসাইট কী? কত প্রকার? বিস্তারিত আলোচনা

একটি ওয়েবসাইট খোলা আগে বিভিন্ন বিষয় আমাদের মাথার মধ্যে ঘুরপাক খায়। সেই বিষয়গুলো যদি আমরা ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করে নির্বাচন করি তাহলে ওয়েবসাইট খুলে সফল হতে পারবেন। ওয়েবসাইট খোলার পর তো আমাদেরকে কত কিছু করতে হয়। কিন্তু, শুরুটা ভালোভাবে করলে ফলাফল ভাল পাবার আশা থাকে।

ওয়েবসাইট, ওয়েবসাইট তৈরি, ওয়েবসাইট তৈরি করা, ওয়েবসাইট তৈরির আগে যে বিষয়গুলোর দিকে খেয়াল রাখা উচিত

ওয়েবসাইট তৈরির আগে যে বিষয়গুলোর দিকে খেয়াল রাখা উচিত

অনেকেই আছেন যারা নতুন নতুন ওয়েবসাইট খুলে কাজ করা শুরু করেন আবার কিছুদিন পর সেই ওয়েবসাইটে কাজ করা বাদ দেন কিংবা বিক্রি করে দেন। তারপর আবার নতুন করে ওয়েবসাইট তৈরি করে সেই ওয়েবসাইটে কাজ করা শুরু করেন। এতে করে সফল হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। যদি আপনি ওয়েবসাইট খোলার আগে কিছু বিষয় মাথায় রেখে ওয়েবসাইট তৈরি করেন তাহলে আপনাকে এই ধরণের কাজ করার প্রয়োজন পড়বেন না। এখন আমরা সেই বিষয়গুলো সম্পর্কে জানব।

নিশ নির্বাচনঃ

কোন ওয়েবসাইট শুরু করার আগে নিশ নির্বাচন অতন্ত্য গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ। আপনি কী ধরনের ওয়েবসাইট বানাবেন এটা আপনার উপর নির্ভর করে। আপনি যে বিষয়ে দক্ষ সেই বিষয়ে ওয়েবসাইট তৈরী করাটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। এছাড়া, নিশ নির্বাচন করার সময় দেখে নিতে হবে সেই নিশে কম্পিটিটর কেমন। যদি কম্পিটিটর অনেক হাই থাকে তাহলে সেই নিশ আপনার নির্বাচন না করাই ভালো। যদি এস.ই.ও আপনার ভালো জানা থাকে তহলে নির্বাচন করতে পারেন। আর, যদি কম্পিটিটর বেশি না তাহলে আপনি সেই নিশটি নির্বাচন করে আপনি ওয়েবসাইট খুলতে পারেন। সঠিক নিশ নির্বাচন করলে আপনি ওয়েবসাইট খুব সহজেই সফল হতে পারবেন।

প্লাটফর্ম নির্বাচনঃ

আপনি কী ধরণের ওয়েবসাইট বানাবেন তার উপর নির্ভয় করে প্লাটফর্ম নির্বাচন করতে হবে। ব্লগার, ওয়ার্ডপ্রেস, জুমলা, ইত্যাদি বর্তমান সময়ের অতন্ত্য জনপ্রিয় প্লাটফর্ম। আপনি যদি লেখালেখি বিষয়ক কিছু করতে চান তাহলে ব্লগার বা ওয়ার্ডপ্রেস বেছে নিতে পারেন। কারণ, ব্লগিং এর জন্য এই দুইটি প্লাটফর্ম অতন্ত্য জনপ্রিয় প্লাটফর্ম। একেকটা প্লাটফর্মে একেক ধরনের সুবিধা পাওয়া যায়। এছাড়াও, আপনার বাজেটও একটি বিষয়। আপনি ব্লগার সিলেক্ট করলে বিনা খরচে ব্লগিং এবং সাথ আয় করতে পারবেন। কিন্তু, ওয়ার্ডপ্রেস সিলেক্ট করলে বিনা খরচে শুরু করতে পারবেন না। তো, আপনাকে অবশ্যই অবশ্যই সঠিক প্লাটফর্ম নির্বাচন করতে হবে আপনার ওয়েবসাইটের তৈরীর জন্য।

ওয়েবসাইটের নাম নির্বাচনঃ

ওয়েবসাইটের নাম নির্বাচন বলে মূলত ডোমেইন নেম নির্বাচনকে বোঝানো হচ্ছে। ওয়েবসাইটের নাম বা ডোমেইন নেম নির্বাচন সময় খেয়াল রাখবেন নামটি যেন আপনার ওয়েবসাইটের নিশ রিলেটেড হয়। মানে, আপনার ওয়েবসাইটের নাম দেখে যেন বোঝা যায় আপনার ওয়েবসাইটি কি নিয়ে। অবশ্যই আপনার ওয়েবসাইটের জন্য ডোমেইন নেমটি ছোট এবং মনে রাখার মতোন একটি নাম নির্বাচন করবেন। আর, চেস্টা করবেন যেন ডোমেইন নেমে সংখ্যা না থাকে।

ডোমেইন এক্সটেনশন নির্বাচনঃ

ডোমেইন নেম নির্বাচন এর পাশাপাশি সঠিক ডোমেইন এক্সটেনশন নির্বাচনও অত্যন্ত জরুরী। .com, .net, .info, .co, .xyz, .edu, ইত্যাদি এর মতোন অসংখ্য ডোমেইন এক্সটেনশন আছে। আপনার ওয়েবসাইটের ধরন অনুযায়ী এক্সটেনশন সিলেক্ট করা উচিত। তবে, আমাদের দেশের অনেক মানুষই ওয়েবসাইট বলতে .com কেই বোঝে। তাছাড়া .com অনেক জনপ্রিয় একটি TLD। তাই আপনি আপনার ওয়েবসাইটর জন্য ডট কম ই নির্বাচন করুন। তবে, আপনি অন্য TLD ও সিলেক্ট করতে পারেন।
ধরুন আপনি একটি নিউজ ওয়েবসাইট বানাবেন। তো, নিউজ ওয়েবসাইটের জন্য .com সিলেক্ট করাই বেস্ট। কিন্তু আপনি যদি নিউজ ওয়েবসাইটের জন্য .edu এক্সটেনশন সিলেক্ট করেন তাহলে তো সেই এক্সটেনশন আপনার ওয়েবসাইটের জন্য পার্ফেক্ট না। তাই অবশ্যই আপনি আপনার সাইটের জন্য জনপ্রিয় এবং আপনার নিশ এর সাথে যায় এমন এক্সটেনশন সিলেক্ট করবেন। জনপ্রিয় ডোমেইন এক্সটেনশন সম্পর্কে জানতে এই পোস্টটি পড়ুন - জেনে নিন জনপ্রিয় কিছু (TLD) টপ লেভেল ডোমেইন সম্পর্কে || .TK, .COM, .NET, .XYZ

হোস্টিং নির্বাচনঃ

হোস্টিং এবং ডোমেইন এই দুইটি জিনিস অবশ্যই অবশ্যই ট্রাস্টেড এবং ভালো কোন কম্পানির কাছ থেকে কিনবেন। আর, হোস্টিং কেনার সময় কম স্পেসের এস.এস.ডি হোস্টিং কিনে আপনি আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারেন। আপনার ওয়েবসাইটের জন্য যদি আরো স্পেস লাগে তাহলে হোস্টিং আপডেট করে নিবেন। অযথা শুরুতেই বড় সাইজের হোস্টিং কিনবেন না। এতে করে অযথাই আপনার টাকা নষ্ট হবে। আর, একটা জিনিস খেয়াল রাখবেন আপনার হোস্টিং এর স্পিড যেন ভালো থাকে।

পরামর্শ

ওয়েবসাইট খোলার আগে আপনি যদি এই বিষয়গুলোর দিকে খেয়াল রাখবেন এবং ধৈর্য, চেস্টা, পরিশ্রম করে কাজ চালিয়ে যান তাহলে ওয়েবসাইট তৈরি করে আপনি সেটা ভালোভাবে চালাতে পারবেন ও সফল হবেন। তবে ওয়েবসাইট তৈরির সময় মানুষ সবচেয়ে বেশী ভুল নিশ নির্বাচনে করে থাকে। তাই আপনি অবশ্যই নিশ নির্বাচনের সময় একটু ভালোভাবে চিন্তা-ভাবনা করে করবেন। হঠাৎ করে ওয়েবসাইট তৈরি করবেন না। কয়েকদিন সেই বিষয়ে চিন্তা ভাবনা করে এক্সপার্টদের পরামর্শ নিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি করাটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

আপনি যদি কম খরচে ব্লগারে ওয়েবসাইট বানাতে চান তাহলে আমার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। আমার সাথে যোগাযোগ করুন

আশা করছি পোস্টটি আপনার ভালো লেগেছে এবং পোস্টটি থেকে উপকৃত হয়েছেন। পোস্টটি কেমন লাগল তা জানাতে অবশ্যই কমেন্ট করবেন। আর, অবশ্যই পোস্টটি আপনি আপনার বন্ধু-বান্ধবদের সাথে শেয়ার করবেন যাতে করে তারও এই পোস্টটি থেকে উপকৃত হতে পারে।