FreelancingOnline Earning

নিশ এবং নিশ সিলেকশন নিয়ে কিছু কথা

আমরা যারা অ্যাফিলিয়েট করি তাদের মুখ থেকে শুনা সর্বাধিক বার কথা হয়তো “নিশ”। যারা নতুন, তাদের প্রায়ই দেখি এই প্রশ্নটা করতে, “ভাই নিশ কি? কিভাবে বের করবো? কিভাবে বুঝবো কোনটা নিবো?” এইসব। অনেকেই জানেন, তাই শুধু নতুনদের জন্য এই টিউনটি।

নিশ মার্কেটিং

মার্কেটিং এর ভাষায়, আপনি যখন শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট প্রোডাক্ট নিয়ে, একটা নির্দিষ্ট কোন জনগোষ্ঠীর, নির্দিষ্ট একটি চাহিদা পূরণ করার উদ্দেশ্যে ওই প্রোডাক্টের প্রোমোশন করবেন তখন সেটাকে আমরা বলি “নিশ মার্কেটিং”। একটা উদাহরণ দিলে ব্যাপারটা সহজ হবে।

মনে করি আমি বাংলাদেশে টুথপেস্টের প্রোমোশন করবো। আমি ডাটা এনালাইসিস করে দেখলাম ৭০% মানুষ টুথপেস্ট ব্যবহার করে (ধরি বাকি ৪০% করে না, তারা নিমকাঠ, ছাই, কয়লা এগুলা ব্যবহার করে)। তো এই ৭০% মানে ধরি ১০ কোটি মানুষ।

এখন এই ১০ কোটি মানুষের এর মধ্যে আবার ৫০% লোক টুথপেস্ট ব্যবহার করে মুখের দুর্গন্ধের জন্য (ক্লোজ-আপ), ৩০% লোক ব্যবহার করে দাঁতের জার্ম দূর করতে(পেপ্সোডেন্ট), ২০% লোক ব্যবহার করে দাঁতের ব্যথা থেকে বাঁচার জন্য।

আরো পড়ুনঃ মার্কেট, মার্কেটিং ও ডিজিটাল মার্কেটিং কি এবং কিভাবে করতে হয়?

আমি ঠিক করলাম আমি ওইসব মানুষদের টার্গেট করবো যারা দাঁতের ব্যথা থেকে বাঁচার জন্য টুথপেস্ট ব্যবহার করে। তার মানে আমি ওই ২০% মানুষের কাছেই শুধু মার্কেটিং করবো। আর এই ২০% ই হলো আমার “নিশ টার্গেট মার্কেট”। আর এই ২০% এর জন্য যদি আমি একটা প্রোডাক্ট অফার করি, যেমন “সেন্সোডাইন টুথপেস্ট”, তাহলে এই প্রোডাক্টটাই হলো আমার “নিশ”।

তো “নিশ মার্কেটিং” এর জন্য ৩টি ফ্যাক্টর থাকতেই হবেঃ

  1. নির্দিষ্ট একটা এরিয়া। (এক্ষেত্রে বাংলাদেশ)
  2. নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠী যারা কিছু খুজছে। (দাঁতের ব্যাথা থেকে মুক্তি)
  3. নির্দিষ্ট একটা সমাধান। (সেন্সোডাইন টুথপেস্ট)

আমরা যারা অ্যাফিলিয়েট করি, তারা প্রথম পয়েন্টটা জানি। আমাদের এরিয়া হলো USA । আর এই দেশের সবচেয়ে বড় মার্কেট প্লেস হলো Amazon । এখন এরিয়া থেকে আমাদের খুঁজে নিতে হবে কিছু নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠী যারা “কিছু একটা” খুজছে তাদের চাহিদা মেটানোর জন্য। আমরা তাদেরকে খুঁজে দিতে সাহায্য করবো “একটা সমাধান”। আর এই সমাধান হবে ওইসব প্রোডাক্ট, যেগুলা Amazon এ অলরেডি আছে তার মধ্য থেকে।

আরো পড়ুনঃ অনলাইনে আয় করার ৫ টি উপায়

এখন প্রশ্ন হলো, হাজার হাজার প্রোডাক্ট থেকে কিভাবে আমরা খুঁজে নিবো? আমাদের ইচ্ছে মতো?

মোটেও না। আমাদের খুঁজে নেবার সময় কিছু ব্যাপার মাথায় রাখতে হবে। এখানে “আবেগ” থেকে বেশি ইম্পোরটেন্ট হলো “ডাটা”। মানে হলো, আমরা আমাদের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দেবো না, বরং ডাটাকে প্রাধান্য দেবো। এই ডাটাকে দুই ভাগে ভাগ করবো। একটা Amazon থেকে পাওয়া ডাটা, অন্যটা গুগল থেকে পাওয়া ডাটা।

প্রথমেই Amazon এর প্রোডাক্ট লিস্ট থেকে আমরা কিছু প্রোডাক্ট বাছাই করবো। আমি সাধারণত ৩টা বিষয়কে গুরুত্ব দেইঃ

  1. প্রোডাক্টের রিভিউ কেমন আছে। বেশি রিভিউ নাই, মানে আপনি বেশি কিছু লিখতে পারবেন না, বেশি তথ্য দিয়ে প্রোমোশন করতে পারবেন না ওই প্রোডাক্ট। আবার রিভিউ বেশি মানে এটা ভালই জনপ্রিয়। যদিও Amazon এ পেইড রিভিউ থাকে, আপাতত এই চিন্তা বাদ দেন। প্রাথমিক বাছাইয়ে আপনি ১৫+ রিভিউকে স্ট্যান্ডার্ড ধরতে পারেন।
  2. ওই প্রোডাক্ট কি “Trendy” নাকি। এর মানে হলো, এটা কি সহজেই সময়ের সাথে পরিবর্তন হয় নাকি হয়না। যদি হয়, তাহলে না নেয়াই ভালো। কারন মানুষ সবসময় Latest জিনিসটাই চাইবে। আপনি আজ লিখলেন Latest মনে করে, কিন্তু ১ বছর পর সেটা আর Latest থাকবে না। সেটা তখন Obsolete হয়ে গেলো। সাধারনত ইলেক্ট্রনিক্স প্রোডাক্ট গুলো ধ্রুত পরিবর্তন হয়। আর এই সেক্টরে কমিশনও কম। তাই পারত পক্ষে এই ধরনের প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ না করাই ভালো।
  3. প্রোডাক্টের দাম কেমন। এটা নির্ভর করবে আপনি কেমন লাভ চাইছেন সেটার উপর। সোজা কথা কম দামে কমিশন কম, বেশি দামে বেশি। তবে “বেশির” একটা স্কেল আছে। মার্কেটিং এ আমরা High Involvement আর Low Involvement দুইটা টার্ম ব্যবহার করি। সাধারণত কম দামের প্রোডাক্ট গুলোকে আমরা Low Involvement Product বলি। কারন এখানে একটা ক্রেতার Involvement ফ্যাক্টর কম থাকে, মানে সিদ্ধান্ত নিতে বেশি সময় নেয়না। আর বেশি দামের প্রোডাক্টে Involvement ফ্যাক্টর বেশি থাকে, অর্থাৎ কিনার জন্যে একটু সময় নেয়। আশে পাশের মানুষের মতামত নেবে, নিজে গিয়ে দেখে কিনতে চাইবে এরকম। এটা আপনাকে বুঝে নিতে হবে দাম উপরে কত পর্যন্ত আপনি যাবেন। একজন Buyer যত সহজে কম চিন্তা করে একটা মাউস অথবা কিবোর্ড কিনবে, তত সহজে সে কিন্তু একটা দামি ল্যাপটপ কিনবে না। আর আপনার সাইট থেকে লিঙ্ক ধরে Amazon এ যাবার ২৪ ঘন্টার মধ্যে কিনলে আপনি কমিশন পাবেন। এর মধ্যে Buyer যদি অন্য রিভিউ সাইটে গিয়ে রিভিউ পড়ে ওই লিঙ্ক ধরে Amazon এ যায়, তাহলে আপনি আর কিছু পেলেন না। আগেই বলেছি High Involvement প্রোডাক্টে ক্রেতা সময় নিবে, যাচাই করবে অনেক বেশি। তাই যত ভালই তথ্য আপনার পেজে থাক না কেন, আপনি রিস্কেই থেকে যাবেন।

আরো পড়ুনঃ প্রোগ্রামিং শেখা শুরু করুন এখন থেকেই [সময়কে কাজে লাগান]

দ্বিতীয়ত আমাদের বিবেচনা করতে হবে Google Adword Tool এ Keyword Planner এর ডাটা। বাছাই করা ওই প্রোডাক্ট দিয়ে টুলে সার্চ করুন। অপশন থেকে Country: US, Key word filter (in between) ৮০০-২০০০ নিন, Key words to include এ “Best” যোগ করুন। এরপর রেসাল্ট নিয়ে কাজ করুন। মনে রাখবেন “Best” ছাড়া আপনার ওই প্রোডাক্টের সার্চ ভলিউম বেশি হতেই পারে। হয়তো কেউ জানতে চাইলো, দেখতে চাইলো জিনিস্টা কি। তার মানে এই নয় সে কিনতে চাইছে। কিন্তু আপনি নিজেকে দিয়েই বিবেচনা করুন। আপনি যখন Best লিখে সার্চ করেন, তার মানে হয় আপনি কিনতে আগ্রহী, অথবা কিনার মুডে আছেন। এজন্যে Best যোগ করলে আমরা আসল Demand সম্পর্কে একটা ধারনা পাই। এরপর সার্চ করে দেখুন আর Keyword (by Relevance) এর ডাটা গুলা নিয়ে রাখুন। এই ডাটা গুলো থেকে আপনি বুঝবেন মানুষ আর কি কি লিখে (অথবা নামে) ওই প্রোডাক্ট সার্চ করে থাকে। এখানে মজার ব্যাপার হলো, আপনি পরবর্তীতে যখন দেখবেন আপনার একটা নির্দিষ্ট কিওয়ার্ড দিয়ে রেঙ্ক করানো কষ্ট হয়ে যাচ্ছে, তখন আপনি এই ধরনের অল্টারনেট কীওয়ার্ড ব্যবহার করে সহজতর উপায়ে রেঙ্ক করতে পারবেন। এই প্রসেসটাকে বলে লং টেইল কীওয়ার্ড রিসার্স। এটা নিয়ে হয়তো আরেকদিন বিস্তারিত বলবো।

আজ এটুকুই। আশা করি এই লিখা একেবারে নতুন মার্কেটারদের অনেক বিভ্রান্তি দূর করবে। আসলে আমি মনে করি নিশ সিলেকশনে “স্ট্যান্ডার্ড” বা “ধরা-বাধা নিয়ম” বলে কিছু নেই। সব কিছুই নির্ভর করবে আপনার ওভার-অল স্ট্রাটেজী আর গেম প্ল্যানের উপর। তাই যদি একান্তই খুঁজে না পান কোন “নিশ” যেটা সব নিয়ম মেনে চলবে, তাহলে হতাশ হবার কিছু নেই। কারন আজ থেকে আরো ১০ বছর পর হয়তো আর কোনো নিশ থাকবে না যেগুলো এই স্ট্যান্ডার্ড ফলো করবে। তাই বলে Affiliate Marketing বন্ধ হবে না, শুধু ওই “স্ট্যান্ডার্ড” টা আজকের চেয়ে বেড়ে যাবে।

Imran Hossan

Everyone wants Happiness, Nobody wants Pain, But you can't make a Rainbow without a little Rain.

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button

Adblock Detected

Hey Dear!! Thank you for visit on WikiBN. Please Disable your AD Blocker to continue browsing.